শত শত ঘরবাড়ি ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন; দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ
নীলপদ্ম নিউজ ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। ভূমিকম্পের তীব্রতায় শত শত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি তিব্বতের রাজধানী লাসার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ও জনবিরল পার্বত্য অঞ্চল নাগকুতে আঘাত হানে। শক্তিশালী কম্পনে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায়। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহেও সময় লাগছে। ফলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে।
শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাড়িঘর ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের পর এই অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ওই বছর চীনের গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
তিব্বতসহ চীনের পশ্চিমাঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অঞ্চলটির জটিল ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের গতিবিধির কারণে এখানে মাঝেমধ্যেই শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অপেক্ষা
সর্বশেষ ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি এবং উদ্ধার তৎপরতার অগ্রগতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট মোঃ জহির উদ্দীন